Wednesday, 13 January 2016

এডভোকেট মোঃ মিজানুর রহমান -এর জীবনীঃ

               
 এডভোকেট,বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট, অতিরিক্ত পি.পি. ঢাকা জেলা । একজন  স্পষ্টবাদী ও ন্যায়পরায়ণ আইনজীবী ।
তিনি ১৫ ফেব্রুয়ারী  ১৯৫৩ খ্রীস্টাব্দে ঢাকা জেলার বর্তমান দক্ষিণখান থানাধীন পৈত্রিক বাড়ি চালাবন্দ মাষ্টার বাড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি  ঢাকার উত্তরা মডেল টাউনের ৯ সেক্টরের ১২ নং রোডের ৫ নং প্লটে  নিজস্ব বাড়ি করে বসবাস করছেন। পিতার নাম মরহুম আলহাজ¦ হাফিজ উদ্দিন আহমেদ মাষ্টার ও মাতার নাম মরহুমা সখিনা খাতুন। তাঁর মরহুম পিতা প্রথম জীবনে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে পরে আজমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, এবং স্বাধীনতার পর দক্ষিণ খান আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং সর্বশেষ নবাব হাবিবুল্লাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন এবং এলাকায় সকলের নিকট হাফিজ উদ্দিন মাষ্টার বলে পরিচিত ছিলেন । পিতা  ২০০১ খ্রীস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।
 ৫ ভাইয়ের মধ্যে মোঃ মিজানুর রহমান হলেন ৩য় । বড় ভাই মরহুম মোঃ ইব্রাহিম খলিলুর রহমান মার্স্টাস ডিগ্রি সমাপ্ত করার পর চাকুরী করেন এবং অবসরে  যাওয়ার পর আমৃত্যু শিক্ষকতা  পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। মেজো ভাই মোঃ আজিজুর রহমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয় (BUET) থেকে বি.এসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন এবং  ১৯৬৭ সনে ঢাকা বোর্ডে ইন্ডাষ্টিয়াল আর্টস গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং পরবর্তীতে  ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে এম.বি.এ.করেন এবং ফার্স্ট ক্লাশ প্রাপ্ত হন। বর্তমানে   একটি বেসরকারী সংস্থায় কর্মরত আছেন। ৪র্থ ভাই বোরহান উদ্দিন আহমেদ ডিগ্রি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন এবং বর্তমানে অসুস্থ । ৫ম ভাই সালাউদ্দিন মাহমুদ  ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ হতে  বি,এ(সম্মান) ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারী। ৫ম ভাই ১৪ তম ব্যাচে বি.সি.এস. পাশ করে সরকারী চাকুরীতে যোগদান করেন এবং বর্তমানে অতিরিক্ত সচিব পদে কুমিল্লার বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী(BARD)এর মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন।
জনাব মোঃ মিজানুর রহমান প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী স্থানীয় গাওয়াইর ইসলামিয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেন। পরে ১৯৬২ সনে উত্তরা আজমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণি পাশ করেন। এরপর আজমপুর নওয়াব  হাবিব উল্লাহ মডেল হাইস্কুলে ১৯৬৩ সনে প্রতিষ্ঠাতা ছাত্র হিসেবে ভর্ত্তি হন। সেই স্কুল থেকে ঢাকা বোর্ডের অধীনে মানবিক বিভাগে ১৯৬৮ সনে এস.এস.সি. পাশ করেন এবং  ১৯৭০ সনে ঢাকা গভঃ কলেজ হতে মানবিক বিভাগে এইচ.এস.সি পাশ করেন। এরপর ১৯৭০ সনে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান(সম্মান) শ্রেণিতে ভর্ত্তি হন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি পারিবারিক নানা সমস্যার কারণে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে পারেননি। এই কারণে তিনি সব সময় মনবেদনায় ভোগেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ১৯৭৩ সনে (অনুষ্ঠিত ১৯৭৫ সন) এবং ১৯৭৪ সনে (অনুষ্ঠিত ১৯৭৭ সন) এম.এ. পাশ করেন। তিনি কিছুদিন ঢাকার উত্তরার আজমপুরে অবস্থিত  অধুনালুপ্ত শহীদ কায়সার আলম চৌধুরী  মহাবিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। অতঃপর  এ.জি (একাউন্টটেন্ট জেনারেল) অফিসে অডিটর হিসেবে চাকুরী নেন। মাত্র নয় মাস চাকুরী করে ভাল না লাগায় চাকুরী ছেড়ে দেন। অতঃপর তৎকালীন আই.আর.ডি.পি(ইন্টিগ্রেটেট  রুরাল ডেভেলাপমেন্ট প্রোগ্রামে ) ডি.পি.ও( ডেপুটী প্রজেক্ট অফিসার) হিসেবে যোগদান করেন। সেখানেও  চাকুরী ভাল না লাগায় চাকুরী থেকে ইস্তফা দেন। এরপর উত্তরার নওয়াব  হাবিবুল্লাহ মডেল হাই স্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ দিন শিক্ষকতা করাকালীন তিনি সেন্ট্রাল ল’ কলেজে এলএল.বি-তে ভর্ত্তি হয়ে ১৯৮১ সনে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনে এলএল.বি পাশ করেন। তিনি ১৯৮৫ সনের ৩ মার্চ বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে  আইন পেশা পরিচালনার সনদ প্রাপ্ত হয়ে একই সনের ১০ মার্চ ঐতিহ্যবাহী ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য পদ গ্রহণ করেন এবং পরে  বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্য পদ গ্রহণ করেন এবং আইন পেশায় পুরোদমে মনোনিবেশ করেন।  তিনি ফৌজদারী ও দেওয়ানী মামলা পরিচালনা করে থাকেন। তিনি ১৯৮৬ সনে গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতিরও সদস্য পদ গ্রহণ করেন। ২০০৯ সন থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত ঢাকা জেলা ও দায়রা  আদালতের অতিরিক্ত পি.পি. হিসেবে দায়িত্ব পালন করে  আসছেন।
তিনি ছাত্রজীবনে ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। তৎসময়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সকল মিটিং-মিছিলে উপস্থিত থাকতেন। তাঁকে ব্যক্তিগত ভাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল ব্যক্তিগতভাবে  চিনতেন । তিনি ১৯৬৯ সনের গণঅভ্যূথানে  সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর  জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান  যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলনে আসেন তখন  মঞ্চে বসার সুযোগ হয়েছিল তাঁর । সে দিন মঞ্চে আরো উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ সহ অনেকে। খুব কাছে থেকে জাতির জনককে দেখার সুযোগ হয়েছিল সেদিন। 
১৯৭৫ সনের ১৫ আগস্টের বিশ্ব ইতিহাসের মর্মান্তিক ঘটনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সপরিবারে হত্যাকান্ডের খবর  ১৬ আগস্ট সকালে রেডিও-তে শুনতে পেয়েছিলেন। সে দিন তিনি খুবই মর্মাহত হয়েছিলেন।
 জীবনের একটি স্মরণীয় ঘটনা বার বার মনে পড়ে ১৯৭১ সনের ১৩ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনীর ভারতীয় ক্যানবেরা বোমারু বিমানগুলো যখন পাকহানাদারদের উপর আক্রমণ করে তখন দক্ষিণখানে নিজ বাড়ির কাছে বোমার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পান। সে দিন তাঁরই পাশে বসা চট্রগ্রামের মীরসরাই-এর  আবুল কাসেম  শহীদ হন। সে দিন পরম করুণাময় আল্লাহতালার অপার কৃপায় তিনি জীবন-মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান।
তিনি ১৯৮৪ সনের ২১ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন  রামপাল গ্রামের অধিবাসী মরহুম এম.এ. মালেক  ও  আম্বিয়া খাতুনের  দ্বিতীয়া কন্যা সুরাইয়া আক্তার পারভিনকে বিয়ে করেন। মিসেস সুরাইয়া আক্তার পারভিন বি.এস-সি; বি.এড; এলএল.বি পাশ করে বর্তমানে নওয়াব হাবিবুল্লাহ মডেল হাই স্কুল এন্ড কলেজের বিজ্ঞান শাখায় সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
জনাব মোঃ মিজানুর রহমান এক পুত্র সন্তানের জনক। পুত্রের নাম আহমেদ মুসাফি আবির। সে  উত্তরার আগা খান স্কুল হতে ও-লেভেল এবং এ- লেভেল  পাশ করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়(BUET) হতে নেভাল আর্কিটেকচার এন্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং  ডিপার্টমেন্ট হতে প্রথম শ্রেণিতে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি প্রাপ্ত হয়ে   বর্তমানে মার্কিন  যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনা (কলম্বিয়া)তে   এম.এস করছে। আবির খুবই মেধাবী ও যুক্তরাষ্ট্রে সপরিবারে বসবাস করছে। আবিরের স্ত্রী আরিফা আল হাদীও  আমেরিকাতে অধ্যয়নরত।
জনাব মোঃ মিজানুর রহমান কয়েকবার  ভারত সফর করেছেন । বাংলাদেশের  প্রায় সব জেলাই তিনি ঘুরেছেন।
হৃদয়ের টানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি  এ পর্যন্ত ৮ বার জেয়ারত করেছেন। ভবিষ্যতে আজীবন  প্রতি বছর সমাধি জেয়ারত করার ইচ্ছা আছে।
তিনি উত্তরা আজমপুরে অগ্রণী ক্লাবের দীর্ঘকাল সাধারণ সম্পাদক ও  পরবর্তীতে  সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দক্ষিণ খান গ্রামের চালাবন্দ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। উত্তরা ৯নং সেক্টরের জামিয়াতুস  সাহাবা জামে মসজিদ ও মাদ্রাসার  অন্যতম উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। উত্তরা ৯নং সেক্টরের বায়তুল আমান জামে মসজিদের তিনি সদস্য। উত্তরা ১নং সেক্টরে অবস্থিত বায়তুস  সালাম জামে মসজিদ এবং মাদ্রাসার কার্যকরী কমিটির তিনি যুগ্ম-সম্পাদক । বর্তমানে তিনি ৯নং সেক্টর কল্যাণ সমিতির অন্যতম সহ-সভাপতির। তিনি হাইস্কুলে অধ্যয়নকালীন স্কাউট ছিলেন এবং তিনি ফায়ার সার্ভিসেরও ট্রেনিং প্রাপ্ত ।
রাজনৈতিক ভাবে তিনি বাংলাদেশ  আওয়ামী লীগ দক্ষিণ খান ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে বৃহত্তর উত্তরা থানা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ঢাকা বার শাখার অন্যতম সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আইনপেশায় এসে নিজেকে গর্বিত ও সন্তুুষ্ট মনে করেন। তিনি মনে করেন আইন পেশার মাধ্যমে জনগণের সবা করার অফুরন্ত সুযোগ রয়েছে ।বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আয়োজিত সকল মিটিং মিছিলে-এ স্বতঃ স্ফুর্তভাবে অংশ গ্রহণ করে থাকেন। বর্তমানে তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী ।
সাক্ষাৎকারটি ১০ ডিসেম্বর ২০১৫ খ্রীঃ গৃহিত ।    

No comments:

Post a Comment